ইউক্রেন পরিস্থিতি ও বিশ্ব মোড়লদের শঠতার নমুনা

 

 

ইদানিং ইউরোপ আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমের সংশ্রবে আসলে যে কারো মনে হবে দুনিয়াটা বোধ হয় কিছু হিংস্র লোক  গ্রাস করে ফেলল । টিভি খুললেই ভেসে আসে উত্তর পশ্চিমের মহান(!) নেতৃবৃন্দের উদ্বিগ্ন ও পরিস্থিতি মোকাবেলায় বলিষ্ঠ  মুখ।  তাদের মধ্যে আছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সেক্রেটারি অব স্টেট জন কেরি। তারা প্রায় প্রতিদিন রাশিয়ার প্রতি কিছু শব্দ নিক্ষেপ করে চলেছেন যা ইউরোপ আমেরিকার আকাশে বাতাশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

এবার আসি, কে কি বলেছেন। রুশ জনগোষ্ঠী অধুষিত ক্রিমিয়ার মানুষকে আসন্ন বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য সৈন্য পাঠানোর প্রস্তাব রাশিয়ার পার্লামেন্টে পাশ হলে  বারাক ওবামা  চিৎকার করে বলতে থাকেন এ ঘোর অন্যায়। তিনি রাশিয়াকে আগ্রাসণ, ভীতিপ্রদর্শণ, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেন এবং রাশিয়া তার পথ থেকে সরে না দাড়ালে  আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর (community) সহায়তায় তাকে উচিত শিক্ষা দেবেন । জন কেরি হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন একুশ শতকে এসে উনিশ শতকের আচরণ কেউ করতে পারে না। অতি পরিচিত মুখ হিলারি ক্লিনটন  রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট পুতিনকে নব্য হিটলার বলে অভিহিত করেছেন। ইউরোপের অন্যান্য নেতারা আমেরিকাকেই প্রতিধ্বনি করে চলেছেন।  এরা রাশিয়া এবং ক্রিমিয়ার কর্মকতাদের ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তাদের সম্পত্তি  অবরুদ্ধ (freeze) করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

উত্তর পশ্চিমের নেতাদের বলা কথার সাথে তাদের আচরন ও কর্মকান্ডকে মিলিয়ে দেখা যাক।  ১৯৫০-৫৩ সাল । তখন যেহেতু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দানব ফ্যাসিস্ট শাসক হিটলার- মুসোলিনির পরাজয় ঘটেছিল সে অর্থে তাকে নতুন দুনিয়া তথা সভ্য দুনিয়া বলা যেতে পারে। সেই সভ্য দুনিয়ায় কোরিয়া নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশ। উত্তরে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা  করলেও দক্ষিন অংশ থেকে গিয়েছিল জাপানি ঔপনিবেশিক দালালদের হাতে। সেটাইতো উদ্ধার করার নতুন সংগ্রামে অবতীর্ন হয়েছিল কোরিয়া। কিন্তু দালালদের রক্ষায় গণতন্ত্রের বুলি আওড়িয়ে এগিয়ে যায় আমেরিকা । সেই ভয়াবহ যুদ্ধ আজো শেষ হয় নি। দু টুকরো  হয়ে গেছে দেশটি।

পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত ভিয়েতনাম যুদ্ধ। স্থায়ীত্বকাল  ১৯৫৬- ১৯৭৫। এখানেও কোরিয়ার মত একই অজুহাতে দক্ষিন ভিয়েতনামের পক্ষ নেয় আমেরিকা। নির্বিচারে মানুষ খুন করে। ভয়াবহ নাপাম বোমা নিক্ষেপ করে যার ফলাফল আজো সেই অঞ্চলের মানুষ তাদের শরীরে মননে বয়ে চলেছে। কিন্তু তাদের গনতন্ত্রের ঠুনকো দাওয়া সেদিন আমেরিকার মানুষকে বেশি দিন গেলাতে পারেনি। সেই যুদ্ধে আমেরিকার শোচনীয় পরিনতি ঘটে।

 

ভিয়েতনামে নাপাম বোমায় দগ্ধ শিশু

 

 

সে সময়ে আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। ১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আব্দেল নাসের সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করলে ব্রিটেন ফ্রান্স, ইসরাইল ও আমেরিকা তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। চিরাচরিত যুক্তি নব্য হিটলারকে উৎখাত করে তাদের পছন্দের গণতন্ত্রীকে গদিতে বসান। সি আই এ’র তত্ত্ববধানে বে অব পিগে ব্রিগেড ২৫০৬  আমেরিকার মিয়ামিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী  ১৯৬১ সালে কিউবার বিপ্লবী সরকারকে উৎখাত করতে আক্রমণ চালায়। সেখানে তাদের প্রতিবিপ্লবী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানি প্রায় ঔপনিবেশিক শোষণ অত্যাচার থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লক্ষ লক্ষ জনতার অংশগ্রগণে মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। পাকিস্তানি দানব ও তাদের দেশীয় দোসর আলবদর আলশামস খুন, অগ্নিসংযোগ, লু্‌ট, নারী ধর্ষণে মেতে উঠেছিল। সে  সময় হানাদারদের দাড়ানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে সপ্তম নৌবহর পাঠায়। সেদিন অবশ্য সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় দোসরদের এই সকল ঘৃন্য কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল।

সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর ইউরোপ আমেরিকা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা ঘোষণা দেয় পুঁজিবাদের বিকল্প বলে আর কিছু নেই। যেখানেই তাদের আধিপত্য বিস্তারে বাঁধা এসেছে সেখানেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। শুধু সেই অঞ্চলের জনতাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য নানান সময়ে নানান প্রকল্প হাজির করেছে। যেমন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, মানব অধিকার রক্ষার যুদ্ধ। আর এই সকল ঘৃন্য  পরিকল্পনার সমর্থন আদায় করে চলেছে বিবিসি, সিএন এন, ফক্স নিউজ সহ সকল সাম্রাজ্যবাদী সংবাদ মাধ্যম। এরা রাতারাতি যে কাউকে নায়ক অথবা ভিলেন বানিয়ে ফেলতে পারে। তারই সফল মঞ্চায়ন ঘটে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের কাছে মানব বিধ্বংসী অস্ত্রের সন্ধান দিয়ে। যুগোস্লাভিয়ার স্লোভদান মিলোসেভিচকে নব্য হিটলার উপাধিতে ভূষিত করে নতুন দিনের পণ নিয়ে কসোভো, বসনিয়া হার্জেগোভিনার জনপদকে হাজার হাজার বোমার আঘাতে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। আফগানিস্তানে যে তালেবানদের এক সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থকড়ি দিয়ে পুষেছিল , প্রয়োজন ফুঁরিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে উচ্ছেদের জন্য আক্রমণ করতে দ্বিধা বোধ করেনি। কয়েক বছর আগে লিবিয়ার গাদ্দাফিকে স্বৈরশাসক, দানব , নব্য হিটলার বলে অভিহিত করে । সেখানে গণতন্ত্রের ফসল ফলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আক্রমণ করে ইউরোপ আমেরিকা। ফলাফল লিবিয়া এখন ছিন্নভিন্ন। রাষ্ট্র বলে একে চেনার আর কোন উপায় নেই। নানান দল উপদলে বিভক্ত এই ভূখন্ড । সিরিয়াতে আসাদ সরকারকে হটানোর জন্য সি আই এ একদল সশস্ত্র দানবকে সাহায্য করে যাচ্ছে । কোন কিছুতে তাদের বাছবিচারের দরকার পড়ে না। তাদের অর্ধ শতাব্দীর ইতিহাস নিশ্চিতভাবে চরম প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সংগ দানের ইতিহাস।  

এদের কর্মকান্ডের ফিরিস্তি অনেক লম্বা। তাহলে আজ যে তারা রাশিয়াকে আগ্রাসণ, ভীতি প্রদর্শণ, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের দায়ে  অভিযুক্ত করছে যদিও রাশিয়া এই মুহুর্তে সদৃশ কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত নয়  তাদের কর্মকান্ড কি উপরোক্ত সকল দায়ে অভিযুক্ত নয়?  জন কেরি যখন অন্যকে একুশ শতকের নৈতিকতার সবক দেয় তখন কি তিনি তাদের কয়েক দিন আগের আগ্রাসণের কথা ভুলে ছিলেন কিংবা এখনও পৃথিবীর নানা প্রান্তে যে তারা উনিশ শতকের কাজগুলিই করে যাচ্ছেন তা ভুলে বসেছেন?

আবার, ক্যামেরুন রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ক্রিমিয়ার গণভোটকে কাজে লাগিয়ে কৃষ্ণ সাগরের উপর প্রভূত্ব করতে চাইলে তারা কঠোর ব্যাবস্থা নেবেন।  সত্যিই সেলুকাস! কয়েকদিন আগেই সিরিয়ায় সৈন্য পাঠানোর জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোটাভোটি হয়েছিল। ভাগ্যিস ক্যামেরুনের প্রস্তাব সেদিন পাস হয়নি! পাস হলে আজ একই কাজ করার জন্য রাশিয়াকে দোষারোপ করার কিছু থাকত না।

এবার, ইউক্রেনে তাদের ষড়যন্ত্রের কর্মকান্ড বিচার করা যাক। প্রথম দফায় ধরা পড়া ফোনালাপে ভিক্টরিয়া নুল্যান্ড ইউক্রেনে তাদের পছন্দের প্রতিনিধির কথা ইউক্রেনে আমেরিকার রাস্ট্রদূতকে জানান যা এখন আন্তর্জালের কারনে অনেকের গোচরে এসেছে। ইয়ানোকোভিচের সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা আন্দোলনকে শুরু থেকে ইউরোপীয় ও আমেরিকার নেতারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে। আমেরিকার প্রভাবশালী সিনেটর জন ম্যাককেইন সরাসরি আন্দোলনকারীদের সাথে মঞ্চে উঠে বক্তৃতা করেছেন, র‍্যালিতে যোগ দিয়েছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কতিপয়  সদস্যকেও একই কাজ করতে দেখা যায়। তাদের ভয়ংকর ষড়যন্ত্রকে বোঝার জন্য  দ্বিতীয় দফায় ধরা পড়েছে এমন একটি ফোনালাপের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। ফোনালাপ হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথারিন এসটন ও এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রি উরমাস পায়েতের মধ্যে। সেখানে পায়েত বলেন কিয়েভে  আন্দোলনকারী ও পুলিশের উপর যে গুলি চলে তা একই বন্দুকধারীদের গুলিতে  নিহত। তিনি আরো বলেন যে আমি এখন উদ্বিগ্ন যে  অলগা বলতে পারে যে এগুলি একই হাতের লেখা একই গুলি। তিনি বলেন এখন এটা আরো স্পষ্ট হচ্ছে যে গুলি চালানোর পিছনে ইয়ানোকোভিচ ছিলেন না ছিল বর্তমান সরকারের কেউ। আর নতুন সরকারে কারা আছে? আমেরিকা ও ইউরোপপন্থী দল ও ব্যক্তি। তার মধ্যে ৭ জন মন্ত্রি নাৎসি সমর্থক। উল্লেখ্য যে অলগা ছিলেন কিয়েভ শহরের মাইদানে ভ্রাম্যমান ক্লিনিকের দায়িত্বরত ডাক্তার।

উক্ত ঘটনা কিসের ইঙ্গিত দেয়? আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালিয়ে আন্দোলনকে আরো বেগবান করা যাতে নির্বাচিত ইয়ানোকোভিচ সরকারকে যেকোন মূল্যে হটানো যায় চাহে সেটা ক্যু দে তা হোক। ইয়ানোকোভিচ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে  ইউরোপ আমেরিকা অর্থ সাহায্য থেকে শুরু করে সকল ধরনের সাহায্যই করেছে ইউক্রেনের উপর তাদের অর্থনৈতিক আগ্রাসণ চালানোর জন্য এবং রাশিয়াকে দুর্বল করার জন্য। সুতরাং, এটি স্পষ্ট যে ইউক্রেনের বর্তমান  অবস্থার অবনতির জন্য প্রধানত ইউরোপ ও আমেরিকা দায়ি।  

কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনাগুলি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিয়েভে মাইদানপন্থীদের আন্দোলন চলাকালীন ইয়ানোকোভিচ সরকারকে স্বৈরশাসক নিপিড়ক বলে অভিহিত করে । সরকারের আন্দোলন প্রতিহত করাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে। কিন্তু নাৎসি সমর্থকদের উত্থান ও তাদের সশস্ত্র তান্ডবকে চেপে রাখে এই সমস্ত সংবাদ মাধ্যম। আবার, রাশিয়ার পার্লামেন্টে রাশিয়ান জাতীকে উদ্ধারের জন্য ক্রিমিয়ায় সৈন্য পাঠানোর সিদ্ধান্তের পরে শুধু রাশিয়াকেই দানব হিসাবে তুলে ধরেছে তা নয় ইউক্রেনেরর পূর্ব  ও দক্ষিন অঞ্চলে কিয়েভ সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে বিশাল আন্দোলনের ঢেউ নেমেছে তাকে রাশিয়ার লেজুড়ে পর্যবসিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া সৈন্য না পাঠালেও ইউক্রেনের সেনাদের ছবিকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে রাশিয়ার সেনা হিসাবে। রাশিয়ায় যে সৈন্য মহড়া চলছে সেগুলির ছবি প্রকাশ করে চালিয়ে দিচ্ছে যে এগুলি ইউক্রেনে ঘটছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের চুক্তি মোতাবেক কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়া ২৫০০০ সেনা মোতায়েন রাখতে পারলেও বর্তমানে ১৬০০০ নিয়োজিত রয়েছে সেটাই চালিয়ে দিচ্ছে ইউক্রেনে ১৬০০০ সেনা নিয়োজিত বলে। ঠিক একই জাতের এবং আরো ভয়ানক তথ্য সন্ত্রাস ঘটেছিল স্তালিনের সময়ে ইউক্রেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ভুয়া খবর প্রকাশ করে। ১৯২১ সালের দূর্ভিক্ষের ছবিকে ১৯৩৪ সালের বলে চালিয়ে আমেরিকার প্রথম সারির নাজি সমর্থক হার্স্ট প্রেস ইউক্রেনে দূর্ভিক্ষের খবর ছাপাতে থাকে। যদিও লুইস ফিচার নামে আরেক আমেরিকার লেখক এর অসাড়তা প্রমাণ করে তথাপি হার্স্ট প্রেস তাদের মিথ্যা তথ্য প্রবাহ চালিয়ে যায়। ইউরোপ আমেরিকার তথ্য সন্ত্রাস সোভিয়েত ইউনিয়নকে রাক্ষস-ক্ষোক্কসের দেশ এবং স্তালিনকে হৃদয়হীন একনায়কে পরিনত করে । কিন্তু আজকের যুগে এসে আগের মত নিরঙ্কুশ দায়মুক্তির সুযোগ নেই।

আজকে ইউক্রেনে যা ঘটছে ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো সাভেচকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য। ক্যুপুর্ব আমেরিকা ইউরোপের নেতাদের নড়াচড়া দেখলেই বুঝা যায় তাদের মতিগতির খবর। তৎকালীন একজন মিডিয়া সম্রাট প্যাট রবার্টসন  প্রকাশ্যে  বলেন যে আমাদের যে ক্ষমতা আছে তার ব্যাবহার করে এই স্বৈরশাসককে হটিয়ে দিতে পারি । এর জন্য আমাদের আরো ২০০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ করার দরকার নেই । কিন্তু সাভেচের বিরুদ্ধে সংঘটিত ক্যু এক দিনের বেশি স্থায়ীত্ব পায়নি।  ১৯৭৩ সালে  চিলিতে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সমাজতন্ত্রী  সালভেদর  আলেন্দেকে রক্তাক্ত ক্যু করে শুধু ক্ষমতাচ্যুত করে না  তাকে হত্যা পর্যন্ত  করে। এটা সকলের জানা যে এর পিছনে আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। সে সময় কুখ্যাত হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিল চিলির জনতার ভুলকে আমরা সমর্থন দিতে পারি না। পানামা, নিকারাগুয়া, হাইতি কোথায় তারা তাদের তথাকথিত মানবাধিকারের বানী উচ্চারণ করে নি? আবার ইসরাইল, সৌদি আরব ,বাহরাইনের মত দেশের সকল কর্মকান্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য তারা এক পায়ে খাড়া। এইতো তাদের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার নমূনা!  

কিন্তু তারপরেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র সচেতন সংগ্রামী সুনির্দিষ্ট পথের দিশারীদের শক্তিমত্তার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে। আবার এও সত্য যে গভীর অন্ধকার পেরিয়েই দিনের আলো স্পষ্ট হয়।  

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s